অবাধ নির্বাচনের পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই বড় চ্যালেঞ্জ: নুরুল হক নুর
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নির্বাচন এবং প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ আমলের কাউন্সিল নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি বারবার রাজপথকে উত্তাল করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক নুর সাফ জানিয়ে দেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ করলে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়।
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি তুলে ধরে নুর বলেন, "প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তারা যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হবে।" তিনি অভিযোগ করেন, তার নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছাচ্ছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরকে বিএনপি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। তবে এই আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন 'ঘোড়া' প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। নুর অভিযোগ করেন, নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি অপশক্তি ষড়যন্ত্র করছে এবং তার আসনে জনরোষ থেকে বাঁচতে ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে 'অস্ত্র' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৩৭ সালের বঙ্গীয় আইনসভা নির্বাচন কিংবা ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন—সবক্ষেত্রেই জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ছিল মুখ্য বিষয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বলেছিলেন, "জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন কোনো ষড়যন্ত্রই টেকেনা।"
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনগুলো তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য হলেও, পরবর্তীতে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসে রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই হলো একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি করা। নুরুল হক নুরের বর্তমান বক্তব্য সেই ঐতিহাসিক দাবিরই একটি অংশ।
২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এক নতুন মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে সংস্কারের দাবি, অন্যদিকে দ্রুত নির্বাচনের চাপ। বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় যদি প্রশাসন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে তা সারা দেশের নির্বাচনী রোডম্যাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করুন, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ হবেন না।"
সূত্র: সরাসরি সংবাদ সম্মেলন (গলাচিপা বিএনপি কার্যালয়), যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও ঐতিহাসিক নথিপত্র।
বিশ্লেষণ: নুরুল হক নুরের এই বক্তব্যটি মূলত মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমর্থন পাওয়ায় নুরের অবস্থান শক্তিশালী হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সক্রিয়তা এবং পুলিশের ভূমিকা তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, যখনই প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ নিয়েছে, তখনই নির্বাচন বিতর্কিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |